শীতে রসুন খাওয়ার উপকারিতা জেনে নিন
আদিযুগ থেকেই মসলার বাইরে রসুনের রয়েছে নানাবিধ ব্যাবহার। তন্মধ্যে খালি পেটে রসুন খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারিও বটে। সকালে খালি পেটে এক কোয়া রসুন খেলে রোগবালাই দূরে থাকে।
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মেটাবলিক রেটও একটু বেশি থাকে। তাই খালি পেটে রসুন খেলে উপকার মেলে অনেক। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয়, হৃদরোগ প্রতিরোধে রসুনের ভূমিকার কথা। ইউনিভার্সিটি অব কানেক্টিকাট স্কুল অব মেডিসিন–এর কার্ডিওভাসকুলার রিসার্চ টিমের মতে, সুস্থ থাকতে প্রতিদিন এক কোয়া কাঁচা রসুন খাওয়া উচিত। কাঁচা রসুন খেলে হার্ট সুস্থ থাকে।
রসুনে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে বলে রক্তে উপস্থিত শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে সহায়তা করে রসুন। সকালে খালি পেটে রসুনের কোয়া খেলে সারারাত ধরে চলা বিপাকক্রিয়ার কাজ যেমন উন্নত হয়, তেমনই শরীরের দূষিত টক্সিনও মূত্রের মাধ্যমে বেরিয়ে যেতে পারে। ঠান্ডা-সর্দি বেশি লাগলে তাদের জন্য খালি পেটে এক কোয়া রসুন খাওয়া যথেষ্ট কার্যকরী।
একটানা দু’সপ্তাহ সকালে রসুন খেলে ঠান্ডা-সর্দি লাগার প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে। হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে রসুন খুবই কার্যকর। হৃদস্পন্দনের হার নিয়ন্ত্রণ করতে ও হৃদপেশির চাপ কমাতে কাজ করে এটি। উচ্চ রক্তচাপের অসুখে ভুগছেন এমন রোগীদের ডায়েটে বেশ কার্যকর এই রসুন।
রসুনের ৭ টি বিশেষ উপকারিতাঃ
- ১. রক্তচাপ কমায়৷ চার কোয়া করে খেলে সে রক্তচাপ কমানোর ওষুধের সঙ্গেও পাল্লা দিতে পারে কিছু ক্ষেত্রে৷
- ২. টোটাল এবং এলডিএল কোলেস্টেরল প্রায় ১০–১৫ শতাংশ কমে যায়৷ তবে উপকারি কোলেস্টেরল বা এইচডিএল বাড়াতে ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে এর কোনও ভূমিকা নেই৷
- ৩. বিপাকীয় ক্রিয়া ও পরিবেশ দূষণের ফলে যে ফ্রি র্যাডিক্যালস তৈরি হয় তা হার্ট তথা সমস্ত শরীরের জন্য ক্ষতিকর৷ রসুনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সেই ক্ষতি খুব ভাল ভাবে ঠেকাতে পারে৷
- ৪. যে সমস্ত হৃদরোগী নিয়মিত রসুন খান, তারা অনেক বেশি অ্যাকটিভ থাকেন৷
- ৫. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের দৌলতে কমে অ্যালঝাইমার ও ডিমেনসিয়ার প্রকোপ৷ সংক্রমণজনিত অসুখবিসুখ কম হয়, বাড়ে আয়ু৷
- ৬. ইস্ট্রোজেন লেভেল বেড়ে হাড়ের স্বাস্থ্য ভাল হয় মেয়েদের৷ তবে এ নিয়ে শেষ কথা বলার সময় এখনও আসেনি৷
- ৭. লেড টক্সিসিটি কমাতে কাজে লাগে৷